তৈয়বার প্রেমের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে একাধিক পুরুষ কাঁদে
শাকুর মাহমুদ চৌধুরী স্টাফ রিপোর্টার
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ( মঙ্গলবার)
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে ঘটছে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা। ভয়ঙ্কর এই প্রতারণার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক রোহিঙ্গা নারীর নাম- তৈয়বা। প্রেমের অভিনব ফাঁদ পেতে ধনী ও সম্ভ্রান্ত একাধিক পুরুষকে টার্গেট করে আসছে সে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর কৌশলে তাদের কাছ থেকে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পরে সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে নতুন শিকার খুঁজছে তৈয়বা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৈয়বার এই প্রতারণার শিকার হয়ে বহু পুরুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেকে পরিবার ও সামাজিক মর্যাদা হারিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রতিদিনই নতুন অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। ফলে ক্যাম্পের ভেতরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সাংবাদকর্মী এইচ কে রফিক এ বিষয়ে বলেন, তৈয়বা নামের এক রোহিঙ্গা নারী বেশ কয়েকজন ধনকুবের পুরুষকে টার্গেট করে প্রেমের অভিনয় করছে। কৌশলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। বিষয়টি শুধু ক্যাম্প নয়, আশপাশের এলাকার সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করুক।
কুতুপালং ক্যাম্প এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, প্রায়ই শোনা যায়, নতুন কোনো পুরুষ তৈয়বার ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই পরিবার ছেড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন এর দ্রুত প্রতিকার হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তৈয়বার প্রতারণার শিকার। তাকে বিশ্বাস করে জীবনের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছি। এখন আমি একেবারে পথে বসা মানুষ।
স্থানীয় প্রশাসন ও ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি শুক্কুর বলেন, এধরণের নষ্টামী স্থানীয়দের মধ্যেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই আমি দ্রুত সময়ে প্রশাসনের নজরদারি জরুরী বলে মনে করি।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পুরুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো। তারা আইনি সহায়তার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মানসিক সাপোর্টও দিয়ে যাচ্ছে।
কুতুপালং ক্যাম্পে তৈয়বার কৌশলী প্রতারণা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং স্থানীয়দের সতর্কতা ছাড়া এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।