মাহবুব আলম মিনার
রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিপির পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন গাছবুনিয়া পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে উপজেলার মংজয়পাড়া এলাকা সংলগ্ন ৪২ নম্বর পিলার থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে গাছবুনিয়া পাড়ায় পাঁচজন মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্য স্থানীয়দের কাছে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ মংজয়পাড়া বিওপির টহল দল সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—
কো কো সাইন (৩৫), সেকেন্ড ইন্সপেক্টর, মিয়ানমারের শান রাজ্যের মোমেক শহরের বাসিন্দা
সোয়েথু রা (৩৮), বিজিপি সদস্য, আয়াওয়ার্দি রাজ্যের প্যান তানাউ শহর
অং সান হতু (২৫), বিজিপি সদস্য, মাগাতুতাও শহর
কিয়াও জায়ের লিন (৩২), বিজিপি সদস্য, আয়াওয়ার্দি রাজ্য
মিন মিনও (৪১), জান্তা সেনাবাহিনীর সদস্য, ইয়াঙ্গুন রাজ্য
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের ৪২ নম্বর পিলার দিয়ে পাঁচজন মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করা হয়েছে।’
তবে আটক ব্যক্তিরা সত্যিই মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সদস্য কিনা—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। আটক পাঁচজনকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান কর্নেল মহিউদ্দীন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। আটক ব্যক্তিদের বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মাসরুরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে এখনও তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তর করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মে পর্যন্ত মিয়ানমার সেনা-বিজিপিসহ মোট ৭৫২ জন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। তাদের তিন দফায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।