কক্সবাজার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬। মাহবুব আলম মিনার
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়া পালং ইউনিয়নের পেঁচারদীপ এলাকার যুবক কাজল দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহত কাজল ওই এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় স্থানীয় দালাল শফির প্রলোভনে পড়ে কাজল তার দুই বন্ধু ফারুক ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গে নৌকাযোগে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান।
পরিবারের অভিযোগ, কাজলসহ তিনজনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দালাল শফি কাজলের পিতার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আদায় করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা মালয়েশিয়ার দালালদের কাছে না পৌঁছানোয় সেখানে কাজল অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে সেই নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে কাজলের মরদেহ মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে। অপরদিকে তার সঙ্গে যাওয়া ফারুক ও জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়ার প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার ও স্বজনরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, তারা রামু থানায় মামলা দায়ের করলেও দালালচক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে মামলার তদন্ত ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশি বৈঠক হলেও ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাদের। বিচার প্রক্রিয়া দালালচক্রের অর্থের কাছে পরাজিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
একদিকে সন্তানের মৃত্যু, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে কাজলসহ বাকি দুই যুবকের পরিবার। তারা যুবক-যুবতীদের অবৈধ পথে সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহত কাজলের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এলাকাবাসী মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন— ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পাশাপাশি ৯ বাকি দুই যুবককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা এবং এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত দালাল এলাকায় অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।