August 1, 2026, 8:02 pm
শিরোনাম :
এআইয়ের যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নরসিংদীতে কাকরোলের গ্রামে চাষিদের দুর্ভোগ কুবিতে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ‘প্রতিহত করা হবে’ বলছে ছাত্রসংগঠনগুলো বালুখালী ৮ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে যুবক নিহত অপহরণের অভিযোগে নতুন মোড়, ৬ দিন পর ‘নিখোঁজ’ রোহিঙ্গা উদ্ধার মায়ের অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণ, দুই কিশোর আটক কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে রহমত আলী(৫) নামের এক রোহিঙ্গা শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা খাইরুলের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ার সাংবাদিককে হুমকি কুবি শিক্ষক সমিতির নতুন আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরিন কুবির ইংরেজি বিভাগ কর্তৃক উপাচার্যকে সংবর্ধনা

কক্সবাজারে ইয়াবা জব্দে অনিয়ম–দুর্নীতির প্রমাণ মিলতেই র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নে বড় রদবদল: কমান্ডারসহ ৩ শতাধিক সদস্য বদলি

বিশেষ প্রতিবেদন - কক্সবাজার

২৯ নভেম্বর ২০২৫, কক্সবাজার। বিশেষ প্রতিবেদন

ইয়াবা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে দায়সারা মামলা, ঘুষ বণ্টন ও অবৈধ উপার্জনের অভিযোগে র‌্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নে নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল ঘটেছে।

কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনের নাম করে সংগঠিত দুর্নীতি ও ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে অসাধুচক্র গড়ে তোলার অভিযোগে র‌্যাব-১৫ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলামসহ পুরো ব্যাটালিয়নের ৩ শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। র‌্যাব সদর দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্টরা জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।

সদর দপ্তর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী—কুতুপালং র‌্যাব ক্যাম্পের কর্মকর্তা, পুলিশের ৩০তম ব্যাচের কামরুজ্জামান সম্প্রতি একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ ইয়াবা এবং নগদ ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার করেন। কিন্তু এত বড় উদ্ধার অভিযানেও মামলায় ‘কম দেখানো’ এবং জব্দকৃত অর্থ–মাদকের বণ্টন–কারসাজির অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

র‌্যাবের প্রতিটি কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা এফএস বা সিভিল টিমের দায়িত্ব হলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ। কিন্তু কক্সবাজারে নিয়োজিত কথিত সিভিল টিমের একটি অংশ ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে অবৈধ যোগাযোগ, সুবিধা গ্রহণ, অপরাধীকে পালাতে সহায়তার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কর্পোরাল ইমাম ও লুৎফর দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি কমান্ডারের সঙ্গে কাজ করতেন। তারা বড় ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে সুরক্ষা–চক্র তৈরি করেছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা এহেতেশাম ও নাজমুলের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।

এমন স্পষ্ট প্রমাণ ও গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তর অবিলম্বে র‌্যাব-১৫ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করেছে। একই সঙ্গে টু–আইসি–সহ সামরিক বাহিনী ও পুলিশের সব কর্মকর্তা–সদস্যকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় দায়িত্ব পালনে যে কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও অপরাধীকে সহযোগিতা—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ; তাই এই রদবদল আরও কঠোর তদন্ত–ব্যবস্থার পূর্বধাপ মাত্র।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়াবা পাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অঘোষিত অপারেশন ক্লিন–শেল্টার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই র‌্যাব-১৫–তে এই গুঁড়িয়ে দেওয়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব সদর দপ্তর জানিয়েছে—
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে দুর্নীতি বা অপরাধের আশ্রয়–প্রশ্রয়কে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা