২৬ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | আই টি এন নিউজ
কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল উখিয়া বনরেঞ্জের আওতাধীন প্রায় ১৯ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি এখন চরম হুমকির মুখে। প্রতিদিনই শত শত ঘনফুট কাঠ চোরাই করে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশত অবৈধ স’মিল এই চোরাই কাঠ চেরাইয়ের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব স’মিলে চেরাইকৃত কাঠ স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পাচার হলেও দেখার যেন কেউ নেই।
এ ধারাবাহিক অনিয়মে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উখিয়ার অভয়ারণ্য। বিলীন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। সামাজিক বনায়ন প্রকল্পও হারিয়ে ফেলছে টিকে থাকার সক্ষমতা—অভিযোগ উপকারভোগীদের।
করাতকল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী সরকারি বনভূমির সীমানা থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল স্থাপন করা নিষিদ্ধ। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া এলাকায় সামাজিক বনায়নের মাত্র ৫০০–৬০০ গজ দূরে বসানো হয়েছে অবৈধ করাতকল। স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জমির আহমদ ২০২৩ সালে করাতকলটি স্থাপন করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বহাল তবিয়তে চলছে এই মিল, যার চেরাই করাতেই নষ্ট হচ্ছে সারাবছর ধরে লালিত সামাজিক বনায়নের বৃক্ষ।
২০২৩ সালে দক্ষিণ বনবিভাগ করাতকল উচ্ছেদে গেলে ঐ নেতা জমির আহমদের পুত্র রিয়াদ ও তার সহযোগীরা বাধা দেয়। পরে বনবিভাগ বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে বন মামলা দায়ের করে—মামলা নং ২৫/২০২৪।
উল্টো রিয়াদ বন বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আরেকটি মামলা করেন—মামলা নং ৩০/২০২৪। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ আদালত রায়ে স্পষ্ট করেন—বাদীপক্ষ করাতকল পরিচালনার কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ফলে করাতকল বন্ধের নির্দেশ দিয়ে মামলাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি হয়।
কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রিয়াদ ও তার সহযোগীরা এখনো করাতকলটি চালু রেখেছে। রায়ের ভাষা বিকৃত করে মিল পরিচালনা অব্যাহত রাখায় সামাজিক বনায়নসহ পুরো বনাঞ্চল আরও বড় বিপদে পড়েছে।
জালিয়াপালং বনবিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুখনুজ্জামান বলেন,
“দক্ষিণ কক্সবাজারে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো করাতকল নেই। সবগুলোই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব করাতকলের কারণে ওষুধি, ফলজ ও বনজ বৃক্ষ প্রজাতি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। খুব দ্রুত ওপর মহলের অনুমতি নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
স্থানীয়রা বলছেন, সামাজিক বনায়ন মানে শুধু গাছ নয়—গরিব মানুষের ভাগ্য, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ রক্ষার নিরাপত্তা। অথচ অবৈধ করাতকলে সেই স্বপ্ন আজ গিলে খাচ্ছে। তাই দ্রুত ট্রান্সফোর্স ও বনবিভাগের সমন্বিত কঠোর অভিযানের দাবি উঠেছে সর্বস্তরে।