১৮ ডিসেম্বর ২০২৫। মাহবুব আলম মিনার
টেকনাফ (কক্সবাজার), ১৮ ডিসেম্বর: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর গহীন পাহাড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টারের শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় এবং বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড়গুলোতে কয়েকটি স্বশস্ত্র ডাকাত দল অস্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলে। এসব ডাকাত দল স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন, মানবপাচারসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। একই সঙ্গে তারা সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানেও সম্পৃক্ত বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) জানতে পারে, রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় একদল ডাকাত সশস্ত্র অবস্থানে রয়েছে। পরে অধিনায়কের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস দল তিন স্তরের রণকৌশল গ্রহণ করে অভিযান পরিচালনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদল সীমান্ত এলাকায়, একদল রঙ্গীখালী পাহাড়ে এবং অপর একটি দল কক্সবাজারগামী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে রঙ্গীখালী পাহাড়ের একটি স্থানে ডাকাতদের সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে আসে। এলাকাটি ঘিরে ফেললে ডাকাত দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতরা তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ফেলে পাশের আরেকটি পাহাড়ে পালিয়ে যায়।
পরে ডাকাতদের পরিত্যক্ত ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে— একটি জি-৩ রাইফেল, জি-৩ রাইফেলের অংশ ও ম্যাগাজিন, চারটি ওয়ান শুটার গান, একটি এলজি শুটার গান, একটি এমএ-১ (ভ্যারিয়েন্ট এমকে-২), একটি একনলা গাদা বন্দুক, তিনটি আরজিএস হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি মর্টারের গোলা, ১৭ কেজি গান পাউডার, হাতবোমা তৈরির উপকরণ, দেশীয় অস্ত্রসহ মোট ৩০২ রাউন্ড গুলি এবং ৫৪ রাউন্ড ব্যবহৃত খালি খোসা।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই ডাকাত দলই দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের মুখে এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মার্চ পতাকা উত্তোলনের পর থেকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) চোরাচালান ও অস্ত্র উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ সময়ে প্রায় ১১৯ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রায় চার কোটি ইয়াবা, গাঁজা, মদ, বিয়ার ও ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং ৮৮ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও মর্টার শেলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।