নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন নামে প্রতিটি সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ১০০ টাকা এবং মাসিক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালুকা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে, মাসুদ, সালাউদ্দিন ও মান্না সিডস্টোর-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম চাঁদা আদায় ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মুক্তাগাছা এলাকার মুলহুতা জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এদিকে ভালুকা উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, ভালুকার সাবেক পৌর ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত মিল্টন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভালুকা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তার অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয়রা নাঈম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বলেও জানা গেছে। তার বাবার নাম সোলাইমান। সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভালুকা থানার অপারেশন ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা তদন্ত করে দেখে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিনের আয় থেকে চাঁদা দেওয়ার পর পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন চালক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অটোরিকশা চালক বলেন, “আমরা দিনভর গাড়ি চালিয়ে যে আয় করি, তার একটি অংশ নিয়মিত চাঁদা হিসেবে দিতে হলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশে গাড়ি চালাতে চাই।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ভালুকার চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।