কক্সবাজারে রিংকি–রিজভীর 'গোল্ড থাই স্পা’তে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান, আটক ৪
বিতর্কিত ‘গোল্ড থাই স্পা’তে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযানে ৪ নারী কর্মী আটক হয়েছেন।
নানা নেতিবাচক সংবাদ ও পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে স্পাটিতে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ–পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে মালিকপক্ষ।
অভিযানের সময় গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে গেছেন আলোচিত রিজভী ও রিংকি—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার - ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা এলাকার সিলভিয়া রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আলোচিত ও বিতর্কিত ‘গোল্ড থাই স্পা’-তে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার রিজিয়নের একটি বিশেষ টিম এ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় স্পার নারী কর্মীরা ছুটোছুটি শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ নারী স্পা কর্মীকে আটক করে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ‘গোল্ড থাই স্পা’ পরিচালনা করে আসছিল বাহারছড়ার যুবক আতাউল্লাহ রেজভী এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী উখিয়ার মরিচ্যা এলাকার রেহেনা বেগম রিংকি। স্থানীয়ভাবে এই স্পা ‘মধুকুঞ্জ’ নামেও পরিচিত।
অভিযোগের পাহাড়
পুলিশি তদন্ত ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, স্পাটির বিরুদ্ধে পর্যটকদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, অনৈতিক ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, মাদক সেবন ও লেনদেন, রোহিঙ্গা ও অনভিজ্ঞ নারীদের দিয়ে অবৈধ ম্যাসাজ করানোসহ অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘণ্টা সিস্টেমে ম্যাসাজের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। পরে গোয়েন্দা তথ্য যাচাইয়ের পর স্পা সেন্টারটিতে সাঁড়াশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে কর্মীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও কিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
সিলভিয়া রিসোর্ট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে—স্পার অনৈতিক কার্যক্রম ও নেতিবাচক প্রচারণার কারণে রিসোর্টের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। এ কারণে কয়েকদিন আগে স্পা খালি করে দেওয়ার জন্য ৭ দিনের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
অভিযানকে কেন্দ্র করে রিসোর্ট মালিকপক্ষ স্পাটিতে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
মালিকপক্ষ পলাতক
স্থানীয়দের দাবি—অভিযানের সময় গ্রেফতার এড়াতে রিজভী ও রিংকি স্পা থেকে পালিয়ে যান। তবে তারা অজ্ঞাত স্থান থেকে জানিয়েছে, “অভিযান শেষ হলে সব আবার ম্যানেজ হয়ে যাবে।”
ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর অবস্থান
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন,
“কিছু স্পা মালিক পর্যটকদের নানা উপায়ে হয়রানি করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি স্পায় অভিযান চালানো হয়েছে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পর্যটকদের স্বার্থ রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
অভিযানের পর স্পা সেন্টারের সামনে কৌতূহলী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের মতে—এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে পর্যটন শহরে বেআইনি স্পা, মাদক ও ব্ল্যাকমেইলিং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে আসবে।