৭ ডিসেম্বর ২০২৫। মাহবুব আলম মিনার
কক্সবাজারের আলোচিত নিখোঁজ কিশোরী মরিয়ম—১৪ দিন ধরে যাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা ভোগেন চরম উদ্বেগে—অবশেষে উদ্ধার হয়েছেন ইমাম মুসলিম মাদ্রাসার ভেতর থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশের এসআই প্রদীপ।
কিন্তু এই উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সমাজে উত্থাপিত হয়েছে একের পর এক প্রশ্ন, যা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আচরণকে ঘিরে আরও রহস্য তৈরি করেছে।
নিখোঁজের পর ১৪ দিন — আর মাদ্রাসার ‘নাটকীয়’ ভূমিকা
মরিয়ম নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ দুই সপ্তাহ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবার থেকেও অভিযোগ ছিল, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে না এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচার ও ফেসবুক লাইভে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হলে সালাহুল ইসলামের পরিবার হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই শুরু হয় নতুন নাটক।
মাদ্রাসার এক ছাত্রীর সিসিটিভি ফুটেজ ধারণ করে সেটিকে নতুন গল্পের মোড় হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীকে ডেকে এনে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ প্রচার করানো হয়—যেখানে নির্বাহী পরিচালক দাবি করেন:
> “মরিয়মকে আমরা পুটখালি এলাকায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছি।”
কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
কঠিন প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে
যে ফুটেজে মরিয়মকে পুটখালি এলাকায় যেতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছিল,
সেই মেয়েটিকেই আবার মাদ্রাসার ভেতর থেকে উদ্ধার—এটি কীভাবে সম্ভব?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো ঘুরছে—
মরিয়ম যদি পুটখালিতে চলে গিয়ে থাকে, তবে সে আবার মাদ্রাসার ভেতর এলো কীভাবে?
১৫০০ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসায় একজন নিখোঁজ কিশোরী ১৪ দিন অবস্থান করলে কেউ তা টের পেল না কীভাবে?
সে ১৪ দিন কী খেয়ে বেঁচেছিল?
তার খাদ্য, পানি, ও প্রয়োজনীয়তা—এসব কোথা থেকে এসেছে?
কোথায় ঘুমিয়েছে? কোথায় গোসল বা পায়খানা-পশ্রাব করেছে?
কোনো কক্ষে লুকানো থাকলে, কে তাকে সেখানে থাকতে দিয়েছে?
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পরপর কয়েকটি অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য এবং ‘সাজানো’ ফুটেজের অভিযোগ স্থানীয়দের চোখে রহস্যকে আরও গভীর করেছে।
কক্সবাজারবাসী বিভ্রান্ত—দরকার নিরপেক্ষ তদন্ত
বিভিন্ন নাটকীয় পরিস্থিতি এবং পরস্পরবিরোধী তথ্য পুরো কক্সবাজারবাসীকে বিভ্রান্ত করেছে।
মানুষের প্রশ্ন—
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এভাবে একজন কিশোরী লুকিয়ে থেকে উদ্ধার হওয়ার অর্থ কী?
এর পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র আছে?
তবুও পরিবারে ফেরত—এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি
সমস্ত নাটকীয়তার মাঝেও মেয়েটিকে জীবিত উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া—এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
“আমার অনুসন্ধান চলমান” — মাহবুব আলম মিনার
ঘটনা ঘিরে নানা অসঙ্গতি ও নতুন তথ্যের সূত্র ধরে লেখক মাহবুব আলম মিনার জানিয়েছেন—
> “আমার অনুসন্ধান এখনো চলমান। খুব শিগগিরই অন্তত ৩০ মিনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উপহার দেব, যেখানে সালাহুল পরিবারের নানা তথ্য প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ।”
নিখোঁজ সাদিয়া সুলতানা মরিয়মকে নিয়ে পরিবার জানায়, গত ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে পরদিন ২৫ নভেম্বর মরিয়মের মা রিনা আক্তার কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নম্বর-২০২৪) করেন।
পরবর্তীতে মরিয়মের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিষয়টি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে জানালে তারা মাদ্রাসায় গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। এরপর ফেসবুক লাইভসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ইমাম মুসলিম মাদ্রাসার সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরেন সংবাদকর্মী মাহবুব আলম মিনার। এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।
অবশেষে নিখোঁজের ১৪ দিন পর, আজ ৭ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৫টায় মাদ্রাসা কম্পাউন্ডের ভেতরের একটি বাসার কক্ষ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করা হয়।
মরিয়ম (১৩) কক্সবাজার শহরের পেশকার পাড়ার বাসিন্দা, মরহুম নুর আহমদের মেয়ে সে ইমাম মুসলিম মাদ্রাসার এতিমখানার ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।