কলামিস্ট - মোহাম্মদ জুহেব | ১৩ জুন ২০২৬ শনিবার
কক্সবাজার শুধু একটি জেলা শহর নয়, এটি বাংলাদেশের পর্যটনের রাজধানী। তাই এখানে উন্নয়নও হওয়া উচিত দেশের অন্যতম সেরা মানের। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যারাই কক্সবাজারের জন্য কার্যকর উন্নয়ন আনবেন, তাদের প্রশংসা করাই উচিত। আমাদের প্রত্যাশা—কক্সবাজার হবে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের একটি পর্যটন নগরী।
কক্সবাজার সদর উপজেলা হয়েও অনেক ক্ষেত্রেই সেই ধরনের উন্নয়নের সুবিধা পায়নি, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নতুন উপজেলা পেকুয়া দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছে। এখনও বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশ ওই উপজেলার ওপর দিয়েই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হওয়ার কথা বহু বছর ধরে শোনা গেলেও এটির কাজ এখনও ধীরগতির। শেষ পর্যন্ত চার লেনে অনুমোদন পেয়েছে বিগত সরকারের করা উপকূলীয় সড়ক, যা আনোয়ারা-পেকুয়া হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত।
অন্যদিকে পেকুয়ার বহু কৃতী সন্তান আজ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। ওসি, এসপি, কউকের চেয়ারম্যান, সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তারা কর্মরত। একটি অঞ্চলের উন্নয়নে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটি তারই প্রমাণ।
এ কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাহেবকে শুধু সমালোচনা নয়, প্রশংসাও প্রাপ্য। নিজের এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা স্পষ্টভাবেই দৃশ্যমান। কক্সবাজার সদর-রামু কিংবা উখিয়া-টেকনাফ আসনের জনপ্রতিনিধিদেরও এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ ও দূরদর্শী পরিকল্পনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
ব্যক্তিগতভাবে আমার আক্ষেপ, তিনি যদি কক্সবাজার সদর আসনের প্রতিনিধি হতেন! তাহলে হয়তো দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক রূপ পেত।
কক্সবাজারের যেসব সমস্যা এখনও সমাধানের অপেক্ষায়—
▪️ কলাতলী, সুগন্ধা ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল পুনরুদ্ধার জরুরি।
▪️ সমুদ্র সৈকতের অনেক অংশ এখনও দখল, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের চাপে রয়েছে। বিচকে পর্যটকবান্ধব ও দখলমুক্ত করতে হবে।
▪️ পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদন, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ওয়াকওয়ে, সাইকেল ট্র্যাক ও পরিবারবান্ধব অবকাঠামোর অভাব রয়েছে।
▪️ শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে পটুয়াখালীর সেলফি রোডের আদলে নান্দনিক সমুদ্রপাড় সড়ক, ভিউ পয়েন্ট ও আলোকসজ্জা নির্মাণ করা যেতে পারে।
▪️ রাজশাহীর মতো আধুনিক আলোকায়ন প্রকল্প গ্রহণ করে রাতের কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করা সম্ভব।
▪️ সিলেটের মতো ধাপে ধাপে তারবিহীন (Underground Utility) নগরী গড়ে তুলতে হবে।
▪️ পর্যাপ্ত গণশৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও পর্যটক তথ্যকেন্দ্র এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
▪️ শহরের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত পার্কিং জোন গড়ে তোলা প্রয়োজন।
▪️ সমুদ্রভাঙন প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
▪️ আন্তর্জাতিক মানের পার্ক, পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম, কনভেনশন সেন্টার, মেরিন ড্রাইভভিত্তিক পর্যটন কার্যক্রম এবং রাতের পর্যটন (Night Tourism) চালু করা যেতে পারে।
কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ইতিবাচক উদ্যোগের স্বীকৃতিও প্রয়োজন। যে কোনো জনপ্রতিনিধি বা নেতৃত্ব যদি উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও জনস্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখেন, তবে তার প্রশংসা করাও নাগরিক দায়িত্ব।