২৩ জানুয়ারি ২০২৬। মাহবুব আলম মিনার
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নে শাশুড়ীকে নিয়ে জামাই পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তারা পুনরায় এলাকায় ফিরে এলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে সদর উপজেলার পশ্চিম পাঁচখোলা এলাকার আউয়াল মাতুব্বরের ছেলে পিকআপ চালক রাহুল মাতুব্বরের সঙ্গে একই এলাকার প্রবাসী মনির মাতুব্বরের মেয়ে তামান্নার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। উভয় পরিবারের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তামান্নার মা হোসনেয়ারা বেগমের যাতায়াত ছিল নিয়মিত।
অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়মিত যাতায়াতের সূত্র ধরেই জামাই রাহুল মাতুব্বরের সঙ্গে শাশুড়ী হোসনেয়ারা বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তারা দুজন অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। বৃহস্পতিবার তারা পুনরায় রাহুলের বাড়িতে ফিরে এলে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ সময় নিজের স্বামী ও মাকে একসঙ্গে বাড়িতে ফিরতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী তামান্না। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে তামান্নার বাবা প্রবাসী মনির মাতুব্বর তিন দিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ তিনি স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাটিকে সামাজিকভাবে অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে মা ও মেয়েকে একই ঘরে বসবাস করতে নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”