মাহবুব আলম মিনার | ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
মিথ্যা মামলায় জড়ানো, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে যুবদল নেতা সাইফুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এমন বিস্তর বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দুই আসামি। তারা হলেন মাসুদ হাসান বকুল (২০) ও মো. ওমর ফারুক প্রকাশ সাকিব (১৮)।
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৯ ডিসেম্বর কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকা থেকে বাস টার্মিনালের দিকে যাওয়ার পথে উত্তরন আবাসিক এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একাধিক মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগী ফারুককে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। এতে ফারুক আহত হলেও মূল লক্ষ্য ছিল সাইফুল ইসলামকে হত্যা।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, ঘটনার দিন ইমরান উদ্দিন খোকা প্রকাশ আরিয়ান খোকা সাইফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও অপর তিন আসামির জন্য পৃথক পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গত ১৯ ডিসেম্বর ভোরে বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি রিসোর্ট থেকে পাঁচজনকে একত্রে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর তিনজনের রিমান্ড শুনানি চলমান রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংঘর্ষে সাইফুল ইসলামের ভাই ও নিকটাত্মীয় নিহত হওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া দ্বন্দ্ব এবং পরবর্তী মামলাগুলোই এই হত্যাচেষ্টার পেছনের মূল কারণ।