২১ নভেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রিয়ার নির্মিত অত্যাধুনিক Schiebel Camcopter S-100 হেলিকপ্টার ড্রোন। সমুদ্র এলাকায় মেরিটাইম সার্ভেইল্যান্স ও রিকোনেইসেন্স সক্ষমতা বাড়াতে এসব আধুনিক ড্রোন সংযোজনকে নৌবাহিনীর বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

S-100 ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে টহল দিতে সক্ষম। প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় টানা ছয় ঘণ্টা আকাশে থেকে নজরদারি চালাতে পারে এই হাই-এন্ড ইউএভি। বিশেষ প্রযুক্তি-নির্ভর এই ড্রোন সম্পূর্ণ অটোনোমাস মোডে টেক-অফ, পূর্বনির্ধারিত রুট অনুসরণ এবং ল্যান্ডিং করতে সক্ষম, যা অপারেশনকে আরও নিরাপদ ও দ্রুততর করবে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী সূত্র।

এদিকে একই ধরনের S-100 ড্রোন মিয়ানমার নৌবাহিনীও ব্যবহার করছে। প্রতিবেশী দেশটি ২০২০ সাল থেকে এ ড্রোনটি বহরে যুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ট্রিয়া তখন সরাসরি মিয়ানমারকে ড্রোনটি সরবরাহ করতে পারেনি। প্রথমে তা সরবরাহ করা হয় রাশিয়াকে; পরবর্তীতে রাশিয়ার মাধ্যমে সেটি মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছে।

তথ্য থেকে জানা যায়, মিয়ানমার আরও আগে থেকেই এই ড্রোনটি সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়নের সময় সুইডিশ প্রতিষ্ঠান Trakka Systems মিয়ানমার সফর করে—S-100-এর জন্য ক্যামেরা সেন্সর সরবরাহ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে। তবে ওই সফর বা সেন্সর সরবরাহ নিয়ে পরবর্তীতে তেমন কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়নি।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়—তৃতীয় ও চতুর্থ ছবিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুক্ত হওয়া S-100 ড্রোন এবং পঞ্চম ছবিতে মিয়ানমার নৌবাহিনীর ব্যবহৃত একই মডেলের ড্রোন।