৯ ডিসেম্বর ২০২৫। মাহবুব আলম মিনার
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর সাথে সম্পৃক্ত একটি বড় নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি)। গত ৮ ডিসেম্বর পরিচালিত ইনটেলিজেন্স-বেসড অপারেশনে (IBO) তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয় অন্তত ১২ জন সন্দেহভাজন এজেন্ট।
সিটিডি জানায়, লাহোর, ফয়সালাবাদ ও বাহাওয়ালপুরে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রী, হ্যান্ড গ্রেনেড, আইইডি তৈরির সরঞ্জাম, ডেটোনেটর, প্রাইম কর্ড, আগ্নেয়াস্ত্র, নিষিদ্ধ লিফলেট এবং নগদ অর্থ।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ‘আদিল’ (Adil) নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে নেটওয়ার্কটি ভারতীয় হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। গ্রেপ্তারকৃতরা দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা, মসজিদ ও উপাসনালয়ের ছবি ও ভিডিও তুলে বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের পাঠাত। তাদের লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাশকতা ও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো।
সিটিডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আটককৃতদের মধ্যে সাকদীপ সিং, আজমত, ফয়জান ও নাবিলসহ কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বাকি সদস্যদের নাম তদন্তের স্বার্থে আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।
সিটিডি কর্মকর্তারা বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে এ চক্র পাকিস্তানে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিল। নেটওয়ার্কের পলাতক সদস্যদের খুঁজে বের করা এবং তাদের অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে।
বিশ্লেষক মন্তব্য
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গোয়েন্দা কাঠামো নিয়ে নানা পর্যবেক্ষক মতামত ব্যক্ত করছেন। কেউ কেউ মনে করেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে কাজ করা সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব বাড়লে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।