মাহবুব আলম মিনার। ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আনন্দের ঢেউ বইছে। এলাকার কন্যাসন্তান শারমিকা শাহরিন পলি ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজ গ্রামকে উপহার দিয়েছেন গর্বের এক অনন্য মুহূর্ত। তার এই অর্জনের খবরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে পরিবার থেকে শুরু করে পুরো এলাকাজুড়ে।
একজন গ্রামবাংলার মেয়ের চিকিৎসক হতে পড়ার সুযোগের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি সমাজ বদলের এক শক্ত বার্তা। এ প্রসঙ্গে লিখক ও সাংবাদিক মাহবুব আলম মিনার বলেন, “গ্রামের মেয়েরা যখন শিক্ষার যে কোনো স্তরে জয়ী হয়, তখন সেই সাফল্য পুরো গ্রামের সঙ্গে এক অদৃশ্য ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করে। বিশেষ করে একজন মেয়ে যখন চিকিৎসক হয়, তখন সে শুধু নিজের পরিবার নয়—গ্রাম, সমাজ এবং দেশকেই সেবার আলোয় আলোকিত করে।”
জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইতিহাসেও এই অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

এর আগে ইউনিয়নের প্রথম এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে রবিউল ইসলাম রবি বর্তমানে উখিয়া সরকারি হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোটবাজারের অর্জিন হাসপাতালে ব্যক্তিগত চেম্বারের মাধ্যমে নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

একইভাবে ইনানীর মাওলানা নুরুল্লাহ সাহেবের কন্যা তামান্না খানম দেশের সুনামধন্য একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে এলাকার জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নিজ গ্রামে এমবিবিএস পড়তে ভার্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নতুন আশার আলো জ্বালালেন শারমিকা শাহরিন পলি।
শারমিকার এই ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবার ও এলাকার মানুষের দোয়া, ত্যাগ ও নিরন্তর প্রেরণা। তার বাবা এসএম জসিম উদ্দিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবে—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না, কিন্তু সেবার মাধ্যমে যে সওয়াব অর্জিত হয়, তা আজীবনের জন্য থেকে যায়।” তিনি মেয়ে যাতে একদিন ডাক্তার হতে পারে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
শারমিকা শাহরিন পলির ভর্তি সুযোগের এই অর্জন জালিয়াপালংয়ের প্রতিটি কন্যার জন্য এক সাহসী স্বপ্নের নাম—যা বলে দেয়, সুযোগ ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে গ্রাম থেকেই গড়ে ওঠবে আগামীর আলোকিত চিকিৎসক।