মাহবুব আলম মিনার - সম্পাদক আই টি এন নিউজ
বুধবার ( ১ অক্টোবর ২০২৫):
★খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় পাহাড়ি কিশোরী ধর্ষণের ফরেনসিক প্রতিবেদন ফাঁস হয়েছে। প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে ইউপিডিএফ—এমন অভিযোগ করেছে সেনাবাহিনী।
★খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: ধর্ষণের আলামত না পাওয়া ফরেনসিক রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় প্রাণহানি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, আগুন ও সড়ক অবরোধে উত্তপ্ত হয়ে আছে খাগড়াছড়ি ও গুইমারা। প্রশাসন বলছে, বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত চক্রান্তেরই অংশ।
বিস্তারিত
খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক পাহাড়ি কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে কয়েকদিন ধরে পাহাড় উত্তাল। অবরোধ, প্রাণহানি আর সহিংসতায় এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আলোচিত ফরেনসিক প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পায়নি মেডিকেল বোর্ড।
তবে ফাঁস হওয়া এ প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পরদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চয়ন শীল নামের এক তরুণকে আটক করে। আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে দেয়। কিন্তু আমাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মামলার অভিযোগে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, সেই সময়ে চয়ন শীল খাগড়াছড়ি শহরের একটি জুয়েলারি দোকানে অবস্থান করছিলেন। ফরেনসিক প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ—উভয়ই ঘটনায় নতুন মোড় দিয়েছে।
এদিকে সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, নিহত ও আহতদের পাশে থাকবে প্রশাসন এবং পুনর্বাসনসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘অবরোধকারীদের আট দফা দাবির মধ্যে সাতটি আমরা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি। তবে অবরোধ তুলে নিলে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে।’ এ সময় তিনি গুইমারার রামসু বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও ঘরবাড়ি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ শোনেন।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, গুইমারার সহিংসতায় হতাহতদের পরিবারকে মামলা করার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁরা মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি ও গুইমারা রিজিয়নের কমান্ডাররা আলাদা করে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছেন।
খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সিঙ্গিনালার ঘটনাকে পুঁজি করে ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এর প্রভাব তিন জেলাজুড়েই পড়তে পারে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সামনে রেখে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে তারা তুচ্ছ ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।’
তিনি আরও জানান, প্রথমে শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হলেও পরে গুইমারায় সহিংসতা ঘটানো হয়, যেখানে তিনজন নিহত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অনেকে আহত হন। এর দায় ইউপিডিএফের।
গুইমারা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবুল কালাম শামসুদ্দিন রানা বলেন, ‘খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সহিংসতা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ। পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ইউপিডিএফসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দায়ী। এ বিষয়ে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খাগড়াছড়ি। ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ দফায় দফায় অবরোধ ঘোষণা দেয়। এ সময় পাহাড়ি-বাঙালি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুইমারায় তিনজন নিহত এবং খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সেনাবাহিনী-পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।