০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার। মাহবুব আলম মিনার সম্পাদক আই টি এন নিউজ
কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী। গত এক বছর তিন মাস মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন, জনসেবা, মানবিক সহায়তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি।

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন নীলুফা ইয়াসমিন। দায়িত্বের শেষ দিনে তিনি আবেগঘন বার্তায় বলেন—
“মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক—এই হোক শেষ পরিচয়।”

‘মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা ছিল আমার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য’
বিদায়ী বার্তায় তিনি জানান, কক্সবাজারের প্রকৃতি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বহুমাত্রিক জনগোষ্ঠীর মাঝে কাজ করা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
তিনি বলেন,
“আইনানুগভাবে আন্তরিকতার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করেছি। সবকিছু হয়তো করতে পারিনি, তবে মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিটি মুহূর্ত আমার জন্য ছিল পরম সৌভাগ্যের।”

অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত ইউএনও
দায়িত্ব পালনকালে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে প্রতিটি মুহূর্তে। বিদায়ের দিনে যে সম্মান পেয়েছি—এটাই আমার সেরা প্রাপ্তি।”

‘সদরবাসী আরও ভালো থাকুক—এই আমার দোয়া’
নিজের প্রতি উপজেলার মানুষের মমতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন আরও বলেন—
“আপনাদের ভালোবাসা, সম্মান ও সমর্থনের প্রতিদান আমি কখনো দিতে পারব না। চাই—সকল উন্নয়ন উদ্যোগে আপনাদের মনে আমার এতটুকু স্থান থাকুক। কক্সবাজার সদর উপজেলা আরও এগিয়ে যাক, আরও সমৃদ্ধ হোক—এই আমার আন্তরিক দোয়া।”
সদরবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া মানবিক প্রশাসক
দায়িত্বকালে তিনি—
অসহায় মানুষের সহায়তায় দ্রুত মানবিক সাড়া
জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা
পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নজরদারি
নারী ও শিশুবান্ধব উদ্যোগ
শিক্ষা, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড
—এসবের মধ্য দিয়ে একজন মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি পান।
বিদায়ী এই কর্মকর্তা জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।