১৭ নভেম্বর ২০২৫, কক্সবাজার। শাকুর মাহমুদ চৌধুরী
উখিয়ার মাছকারিয়া বিলে অতিথি পাখি নিধনের উৎসব: শিকারীদের দৌরাত্ম্যে হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের মনোমুগ্ধকর মাছকারিয়া বিল এখন পরিণত হয়েছে অতিথি পাখি নিধনের অভয়ারণ্যে। শীত মৌসুমের শুরুতেই সাদাবক, পানকৌড়ি, বালিহাঁসসহ নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি শিকারীর টার্গেটে পড়ে নির্মমভাবে গুলি ও ফাঁদে ধরা পড়ছে। বিলের প্রতিদিনের এই প্রকাশ্য নৃশংসতা স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং পরিযায়ী পাখিদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলকে চরম সংকটে ফেলেছে।
শাপলার বিল সংলগ্ন হওয়ায় মাছকারিয়া বিল দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে। প্রতিবছর হাজারো পরিযায়ী পাখি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই বিলে আশ্রয় নেয়। কিন্তু এ মৌসুমে তাদের আগমনই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং শিকারী চক্রের অদম্য দৌরাত্ম্যে বিলজুড়ে চলছে পাখি হত্যার উন্মাদনা।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়ুব রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“পাখির আগমনে শীতে এই বিল জীবন্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু এখন প্রতিদিন দেখা যায় শিকারীরা নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে গুলি করছে। কোথাও ফাঁদ, কোথাও দেশি অস্ত্র—যাকে পাবেন তাকেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ক’দিন পর আর কোনো অতিথি পাখির দেখা মিলবে না।”
পরিবেশ-সংবেদনশীল রিপোর্টার ও উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর শাহরিয়ার বলেন—
“মাছকারিয়া বিল শুধু জলাভূমি নয়, উখিয়ার পরিবেশের নিরাপত্তাবলয়। অথচ মৌসুম শুরু হওয়ামাত্র প্রকাশ্যে চলছে পাখি শিকার। সংবাদ প্রকাশের পরও কার্যকর কোনো তদারকি নেই। অবৈধ শিকার বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর অভিযান চালাতে হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ—বনবিভাগ ও প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় শিকারীরা ঔদ্ধত্যে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের ভাষায়, এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিলটি “অতিথি পাখির অভয়ারণ্য” থেকে পরিণত হবে “শিকারীদের রাজ্যে”।
পরিবেশবিদদের মতে, মাছকারিয়া বিলের মতো জলাভূমি ধ্বংস হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো উখিয়ার ইকোসিস্টেম। শুধু পাখি নয়, ঝুঁকিতে পড়বে জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ ও স্থানীয় আবাসিক পাখিরাও।
তাদের দাবি—
অবৈধ শিকার বন্ধে বিশেষ নজরদারি
নিয়মিত অভিযান
স্থানীয়দের অংশগ্রহণ
পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ
—এসব বাস্তবায়ন করলেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
প্রকৃতি ও অতিথি পাখিদের এই শীতকালীন আবাসস্থল রক্ষা এখন সময়ের দাবি। নইলে খুব শিগগিরই মাছকারিয়া বিলের সৌন্দর্য থাকবে শুধু স্মৃতিতে, গল্পে।