মাহবুব আলম মিনার। ১৬ জুন ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বসবাসরত কুতুপালং লম্বাশিয়া গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক স্থানীয় পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিনা নোটিশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সোমবার (১৫ জুন) সকালে সিআইসি শরীফুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে এলাকায় গিয়ে সংযোগগুলোকে ‘অবৈধ’ দাবি করে বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেন। এতে শত শত পরিবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার পাশাপাশি নিত্যদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
লম্বাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাদ্দাম জানান, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন দাবি করেন, তারা পল্লী বিদ্যুতের বৈধ গ্রাহক এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। এরপরও কেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো, তা বোধগম্য নয়।
একই গ্রামের গৃহবধূ আয়েশা বলেন, “হঠাৎ বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারের দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতের বেলায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কৃষকদলের উখিয়া উপজেলা সদস্য সচিব সাদমান জামী চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, “ন্যায্য অধিকার কীভাবে আদায় করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “সিআইসি স্থানীয়দের প্রতি দ্বিচারিতামূলক আচরণ করেছেন। এতে বৈধ গ্রাহকরাও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”
আইনজীবী সাফফাত ফারদিন চৌধুরী বলেন, “যদি বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে তা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
এদিকে রত্নাপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সিএনজি চালক জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এনজিওর কিছু গাছের চারা নিয়ে ক্যাম্পে প্রবেশের পর তার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গাড়ি আট দিন আটক রাখা হয়। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপের পর গাড়িটি ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিআইসি শরীফুল ইসলাম বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বন বিভাগের জমিতে স্থাপিত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।”
বৈধ গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের অবস্থান জানতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কায়জার নুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।