০২ ডিসেম্বর ২০২৫। মাহবুব আলম মিনার
কক্সবাজারের উখিয়ায় তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রধান আসামি ও নিহত নারীর স্বামী জসিম উদ্দিনকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫।
র্যাব জানায়, গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তচ্ছাখালী খালে বস্তাবন্দী অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সনাক্ত হয় নিহত নারীর নাম রহিমা আক্তার (৩০)। তিনি উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেনের মেয়ে এবং মরিচ্যা এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। পরিবার জানায়, ৬ নভেম্বর রাত ১১টা থেকে রহিমা নিখোঁজ ছিলেন।
ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে র্যাব-১৫ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, প্রায় ১০ বছর আগে রহিমার সঙ্গে জসিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জসিম শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল। প্রায়ই স্ত্রীকে তালাক ও হত্যার হুমকি দিতেন তিনি।
র্যাব জানায়, ৬ নভেম্বর জসিম স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার কথা বলে বাইরে আনেন। পরে এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি মোবারকের সহায়তায় বাড়ির পাশের খালি জায়গায় নিয়ে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। এরপর লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পরদিন এলাকাবাসী রক্ত দেখতে পেলে জসিম বিষয়টি আড়াল করতে মৃত গরু পুঁতেছিল বলে চালিয়ে দেন।
এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে জসিম ও সহযোগী মোবারক রাতে লাশ তুলে বস্তায় ভরে তচ্ছাখালী খালে ফেলে দেন।
ঘটনার পর ভিকটিমের মা সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে উখিয়া থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৫ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ১ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের বোলায়খালী থানার পূর্ব গোমদন্ডী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতা জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।