ডেস্ক রিপোর্ট | ২ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
ময়মনসিংহের ভালুকায় সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন নামে প্রতিটি সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ১০০ টাকা এবং মাসিক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া পরিবহন শ্রমিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালুকা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় এ চাঁদাবাজি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, মাসুদ, সালাউদ্দিন ও মান্না সিডস্টোর-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নামচাঁদা আদায় ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে মুক্তাগাছা এলাকার মুলহুতা জামান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগের কথা স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে, ভালুকা উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায়ও চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ভালুকার সাবেক পৌর ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত মিল্টন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভালুকা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তার অনুসারীদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানা যায়নি।
সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার নাম নাঈম, পিতা সোলাইমান বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ কারাগারে রয়েছেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতের নথি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিনের আয় থেকে চাঁদা দেওয়ার পর পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন কয়েকজন চালক।
একজন অটোরিকশা চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা দিনভর গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, তার একটি অংশ যদি নিয়মিত চাঁদা হিসেবে দিতে হয়, তাহলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন। আমরা চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশে গাড়ি চালাতে চাই।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাধা না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ভালুকায় চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।