October 15, 2026, 2:53 pm
শিরোনাম :
ভালুকায় সিএনজি-অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, আতঙ্কে চালকরা দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিএনজি, অটোরিকশা থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ  আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন  চালকরা টেকনাফের ২২ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইয়াবা কারবারিদের প্রধান ট্রানজিট – ইয়াবা সিন্ডিকেট ও অপকর্মের নেপথ্যে হেড মাঝি রফিক ও সাব্বির লামা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সংবাদ সম্মেলন”যোগ্য সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়ার ঘোষণা, শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয়’ লামায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটিসভাপতি শফিউল আজিম, সম্পাদক নুরুল আবছার আরিফ লামায় ৫০ প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২২২ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত। “লামা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সংবাদ সম্মেলন” ‘যোগ্য সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়ার ঘোষণা, শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয়’ পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলের ছদ্মবেশে সীমান্ত পার, ১০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক পালংখালীতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাল সন্দেহভাজনরা, উদ্ধার পুরাতন পিস্তল

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত আরএসওকে ঘিরে এআরএর বিস্ফোরক দাবি, সীমান্ত ও ক্যাম্প নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Reporter Name

 

উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন বলে পরিচিত আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর পারস্পরিক বিরোধ, অস্ত্রের মজুত, সীমান্তের ওপারে অবস্থান এবং ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে একাধিক দাবি সামনে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যুগান্তর জানিয়েছে, নবী হোসেনের নিয়ন্ত্রণে প্রায় তিন হাজার ভারী ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থাকার দাবি রয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে জি-৩, এম-১৬, একে-৪৭, বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন সামরিক অস্ত্র এবং গ্রেনেড ও রকেটজাতীয় অস্ত্র থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশ মিয়ানমারের তোতার দ্বীপসংলগ্ন সীমান্তের ওপারে মজুত রয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালেও নবী হোসেনের নেটওয়ার্ক ও বিপুল অস্ত্র সংগ্রহ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে বিদেশি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ক্যাম্প-১১-তে যৌথ অভিযানে চারজনকে আটক এবং একটি বিদেশি ইউজি সাবমেশিনগান ও ১৪ লাখ টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; তাদের নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন এআরএর সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করা হয়।

এআরএ কমান্ডারদের ভিন্ন দাবি

এআরএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিজেদের সংগঠনকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য লড়াইরত একটি সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কমান্ডারের দাবি, সংগঠনের কিছু সদস্য অতীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা ওই কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।
তাদের দাবি, মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করে এআরএ সদস্যরা আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এআরএর মজুত অস্ত্রের ওপর আরএসও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে এআরএর সদস্যদের মিয়ানমারের ভেতরে সরে যেতে হয়েছে।
এআরএর আরেক কমান্ডার চন্দনাম-হুরায়রা দাবি করেন, তারা একসময় নাফ নদীর দুটি দ্বীপে অবস্থান নিয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। পরে আরএসও ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাতের কারণে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এবং উক্ত নাফ নদীর দুই দ্বীপে বর্তমানে আরএসওর অবস্থান চলছে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরএসওর ইয়াবা পাচার। সংঘাতের সময় এআরএর কিছু অস্ত্র প্রতিপক্ষ আরএসও নিয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরএসওকে ঘিরে এআরএর গুরুতর অভিযোগ

এআরএর দুই কমান্ডারের অভিযোগ, বর্তমানে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ আরাকান আর্মির চেয়েও আরএসও। তাদের দাবি, আরএসও আরাকান আর্মির সঙ্গে সমন্বয় করে এআরএর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
এআরএর পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, নাফ নদীসংলগ্ন কয়েকটি দ্বীপকে ব্যবহার করে আরএসও সদস্যরা মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত এবং সীমান্তপথে বিভিন্ন ধরনের আরাকান আর্মির জন্য রসদ চলাচলেও তারা জড়িত। এমনকি বাংলাদেশ থেকে খাদ্য ও অন্যান্য রসদ মিয়ানমারের দিকে পাচারের বিনিময়ে মাদক আদান-প্রদানের অভিযোগও করেন তারা।
বিষয়গুলোকে এআরএ র দাবি ও অভিযোগ হিসেবেই দেখছে এই প্রতিবেদক ।

ক্যাম্পে সহিংসতার সঙ্গে নতুন করে প্রশ্ন
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, হত্যা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ক্যাম্প-৮-এ নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল গুলিতে নিহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি নবী হোসেনের ভাই ও ক্যাম্পের কমিউনিটি নেতা ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল।
এরপরও ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত অব্যাহত থাকার তথ্য এসেছে। সাম্প্রতিক এক সংঘর্ষে ছয় বছরের এক রোহিঙ্গা শিশু নিহত এবং তার মা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ওই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৫১টি সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন।

অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন
এআরএর দুই কমান্ডারের কাছে সংগঠনের অস্ত্র, রসদ ও কার্যক্রম পরিচালনার অর্থের উৎস জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় থাকা তাদের সমর্থক ও কমিটির সদস্যরা নিয়মিত অর্থ সহায়তা দেন। সেই অর্থেই সংগঠনের সদস্যদের কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে তারা দাবি করেন।
তবে অর্থের উৎস সম্পর্কে তাদের এই বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের জন্য যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে
এআরএর কমান্ডারদের এসব বক্তব্য এবং বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা মিলিয়ে কয়েকটি বিষয় নতুন করে সামনে এসেছে—সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রের মজুত কোথায়, কীভাবে এসব অস্ত্র সীমান্ত এলাকায় আসছে, ক্যাম্পে অস্ত্র ও মাদকের প্রবেশপথগুলো কী এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘাতের প্রভাব সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কতটা পড়ছে।
এআরএর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না। তাদের প্রধান নবী হোসেন বর্তমানে মিয়ানমারের ভেতরে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন কমান্ডাররা। এসব তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান, অস্ত্রের সম্ভাব্য মজুত, নাফ নদী ও সীমান্তপথের ব্যবহার এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব গোষ্ঠীর প্রভাব—সব মিলিয়ে বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা