নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) | ২৭ জুলাই ২০২৬
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সিএনজি ছিনতাই ও চালককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে লামা থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন দস্যুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া সিএনজি ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার আলাউদ্দিন (২৬), কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর মো. শওকত ওরফে শহীদ (৩৩) এবং টেকনাফের হাজমপাড়ার রমজান আলী (৩০)।
পুলিশ জানায়, গত ২০ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চারজন যাত্রীবেশী দুর্বৃত্ত ফাইতং বাজারে যাওয়ার কথা বলে সিএনজি চালক নুরু আলমের গাড়ি ভাড়া নেয়। লামা-ফাইতং সড়কের বদরটিলা এলাকায় পৌঁছালে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালককে জোর করে গাড়ি থামিয়ে মারধর ও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে সিএনজি, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় নুরু আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এ ঘটনায় নুরু আলম বাদী হয়ে লামা থানায় দস্যুতা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে।
গত ৬ জুলাই বরগুনা থেকে আলাউদ্দিন, ৭ জুলাই চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার সাগরিকা থেকে মূল হোতা শওকত ওরফে শহীদ এবং ৮ জুলাই টেকনাফ থেকে রমজান আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের নাইট্যংপাড়া এলাকা থেকে লুণ্ঠিত সিএনজি উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আলাউদ্দিন ও রমজান আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন।
লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, “মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমও চলমান আছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।