October 6, 2026, 9:09 am
শিরোনাম :
ভালুকায় সিএনজি-অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, আতঙ্কে চালকরা দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিএনজি, অটোরিকশা থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ  আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন  চালকরা টেকনাফের ২২ নাম্বার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইয়াবা কারবারিদের প্রধান ট্রানজিট – ইয়াবা সিন্ডিকেট ও অপকর্মের নেপথ্যে হেড মাঝি রফিক ও সাব্বির লামা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সংবাদ সম্মেলন”যোগ্য সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়ার ঘোষণা, শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয়’ লামায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটিসভাপতি শফিউল আজিম, সম্পাদক নুরুল আবছার আরিফ লামায় ৫০ প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২২২ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত। “লামা প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সংবাদ সম্মেলন” ‘যোগ্য সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়ার ঘোষণা, শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয়’ পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলের ছদ্মবেশে সীমান্ত পার, ১০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক পালংখালীতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাল সন্দেহভাজনরা, উদ্ধার পুরাতন পিস্তল

পেকুয়ায় থানার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মা–মেয়ের সাজা, ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয়রা

Reporter Name

মাহবুব আলম মিনার। কক্সবাজার, ৮ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এক মা ও মেয়েকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ।

ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দাবি, থানার ভেতরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম জানান, থানার ভেতরে তার সামনেই পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এ কারণে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্তদের সাজা দেন এবং তাদের সামনাসামনি বিষয়টি জানানো হয়।
তবে মুক্তি পাওয়ার পর জুবাইদার মা সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো কার্যক্রম তাদের সামনে হয়নি এবং তারা বিচার বা সাজার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন, কক্সবাজার কারাগারে নেওয়ার পর কারাগারের ফটকে গিয়ে তারা প্রথম জানতে পারেন যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও আইন সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, পুলিশের ভাষ্যমতে যদি সত্যিই জুবাইদা ও তার মা থানার ভেতরে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা করে থাকেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করে থাকেন, তাহলে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেপ্তার করার সুযোগ ছিল।
কিন্তু সেই পথ অনুসরণ না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক বলছেন তারা। অতীতে পুলিশের ওপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার নজির খুবই বিরল বলেও উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, পুরো ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা থাকতে পারে। তাদের সন্দেহ, থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতন বা ঘুষ দাবির মতো অভিযোগ আড়াল করতে তড়িঘড়ি করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আর এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
এ অবস্থায় ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পুরো বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মা-মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পেকুয়া থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপরদিকে শুক্রবার ফোনে কথা হলেও শনিবার অভিযুক্ত ইউএনও মাহবুব আলমের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য ও ভুক্তভোগী পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন একমাত্র পথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা