৩০ জানুয়ারি ২০২৬। জালাল উদ্দিন কাউসার
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মরিচ্যা গুরামিয়া গ্যারেজ এলাকায় কক্সবাজার–টেকনাফ মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মসজিদ মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য মনজুর আলম মেম্বার পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করেন। এ ঘটনার জেরে গত ২৮ জানুয়ারি উখিয়া থানায় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং সাংবাদিক জালাল উদ্দিন কাউসারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, ভূমিদস্যুতা, নারী কেলেঙ্কারি ও একাধিক মামলার আসামি মনজুর আলম মেম্বার এবং মদ ব্যবসায়ী শিল্পী কর্মকার এই মামলা প্রত্যাহার না করলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপূজা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদুল শর্মা বাবু। তিনি বলেন, ‘ইমরুল কায়েস চৌধুরী গত চার বছর ধরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল। এমন একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’
রুমখা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন বড়ুয়া বলেন, ‘মসজিদের মার্কেট নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং মদ ব্যবসায়ীদের চলাচলের জন্য গোপন পথ তৈরি করতে গিয়ে মনজুর মেম্বার তার লালিত সঙ্গপাঙ্গ ও এনসিপি নেতাসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করেন। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এখন মিথ্যা মামলা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’
কালি মন্দির কমিটির সভাপতি অরিবৃন্দ ধর বলেন, ‘নিরীহ মানুষ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’
এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পশ্চিম পাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি অজিত শর্মা, নিতাই শীল কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি অজিত শর্মা, দুর্গামন্দির সভাপতি সুমন শর্মা, সমাজসেবক কাজল বড়ুয়া, মিটন প্রবু, অনিল বড়ুয়া, চৌধুরী পাড়া বৌদ্ধবিহার সেবা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুনিল বড়ুয়াসহ বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা আরও বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টকারী এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।