মাহবুব আলম মিনার। ১১ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত ৯ বছরের শিশু হুজাইফা আফনান বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। রোববার সকালে দাদার সঙ্গে দোকান থেকে নাস্তা কিনে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়।
আহত হুজাইফা আফনান হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। সে স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে সে সবার বড়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লম্বাবিল গ্রামের তেচ্ছা বিল এলাকায় হুজাইফাদের বাড়ি, যা মিয়ানমার সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। শনিবার রাত থেকে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। রোববার সকাল থেকে গোলাগুলি আরও তীব্র হয়। ঘন কুয়াশার মধ্যে হুজাইফা তার দাদার সঙ্গে দোকানে নাস্তা কিনতে বের হলে বাড়ি ফেরার পথে একটি গুলি এসে তার শরীরে লাগে।
হুজাইফার চাচা শওকত আলী জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিশুটিকে প্রথমে টেকনাফে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাতে চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি তার মুখের ডান পাশ দিয়ে ঢুকেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুরুতে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়ালেও পরে তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল দুপুরে বলেন, “শিশুটি গুলিবিদ্ধ হলেও সে জীবিত আছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।”
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন, “শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর খবর শোনা গেলেও তা সত্য নয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।”
এদিকে শিশুটির গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনতা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলির কারণে হোয়াইক্যং ও আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু হুজাইফার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সেই আতঙ্ককে আরও গভীর করেছে।
বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।