সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | আইটিএন নিউজ
উখিয়া রেঞ্জের সদর বিটের আর্মি ক্যাম্পসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয়দানকারী রোহিঙ্গা মোহাম্মদ নুর প্রকাশ্যে বন কর্মকর্তাদের হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নুরের এক সহযোগীকে আটক করে বন বিভাগ।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেই উত্তেজনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত বনের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে বন বিভাগ সেটি বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে রোহিঙ্গা মোহাম্মদ নুর নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। পরে বন বিভাগের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করলে নুর ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।
এই সময় নুরের নেতৃত্বে দুই যুবককে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে নুর ও তার সঙ্গে থাকা ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মুফিজ আলম প্রকাশ ‘খলিবা মুফিজ’কে স্থানীয়রা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। তবে নুরের আরেক সহযোগীকে ঘটনাস্থলেই ধরে ফেলে বন বিভাগের সদস্যরা।
বন কর্মকর্তার বক্তব্য
এই বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জ অফিসার আব্দুল মান্নান জানান—
“রাজধানী টিভির সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রোহিঙ্গা নুরের বনজমি দখলের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে নুর অত্যন্ত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। স্থানীয়দের সহায়তায় রাসেল নামে একজনকে আটক করা হলেও নুর ও মুফিজ কৌশলে পালিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, বনজমি দখলের চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি: উঠে এলো অপরাধচক্রের তথ্য
ঘটনার পর পরিবেশ আন্দোলন বাপার কেন্দ্রীয় নেতা, জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার এবং আইটি এন নিউজের প্রধান উপদেষ্টা এইচ.এম. এরশাদ জানান—
> “মোহাম্মদ নুর কিংবা রোহিঙ্গা নুর কক্সবাজারের কোনো সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য নয়। একসময় র্যাবের সোর্স থাকলেও পরবর্তীতে ইয়াবা কারবারে যুক্ত হওয়ায় তার নাম অপরাধ তালিকাভুক্ত হয়। এরপর সে বিভিন্ন সাংবাদিকের ক্যামেরাম্যান পরিচয়ে ঘোরাঘুরি করে নিজেকে সাংবাদিক দাবি করতে শুরু করে।”
তিনি আরও বলেন, নুর দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত। ২০১৯ সালে কলাতলী আদর্শ গ্রামে বনজমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পরিবর্তনের সময় দ্রুত সেই বাড়ি বিক্রি করে উখিয়ায় চলে আসে নুর। প্রায় ১১ মাস আগে মহুরীপাড়ায় বন বিভাগের পাঁচ শতক জমি একটি স্থানীয় ব্যক্তির কাছ থেকে ‘কেনার’ নাম করে দখল নিয়ে টিনসেট ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে।
চাঁদাবাজি ও বনজমি দখলের পেছনে আরেকজন
থাইংখালী এলাকার দর্জি মুফিজ আলম প্রকাশ ‘খলিবা মুফিজ’-এর সহায়তায় নুর রাজধানী টিভির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বনজমি দখলের কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) উখিয়া ডিগ্রি কলেজের দক্ষিণ পাশে বন বিভাগের আরেকটি জমি দখলের চেষ্টাকালে স্থানীয়দের বাধার মুখে পালিয়ে যায় নুর। পরে বন বিভাগ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে সরকারি কাজে বাধা, বনজমি দখল, ভয়ভীতি এবং হামলার অভিযোগে রোহিঙ্গা নুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয়রাও এই ঘটনার নিষ্পত্তি ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।